📅 সর্বশেষ আপডেট: অক্টোবর ২০২৬ (October 2026)
তথ্যসূত্র ও ডিসক্লেইমার: এই প্রতিবেদনটি সরকারি পোর্টালের (pminternship.mca.gov.in) অফিশিয়াল নির্দেশিকা যাচাই করে শুধুমাত্র জনস্বার্থে তৈরি।
💡 এক নজরে মূল তথ্য (Key Takeaways)
- সংশোধিত মাসিক স্টাইপেন্ড: ২০২৬ সালের নতুন নিয়মে প্রতি মাসে স্টাইপেন্ড ৫,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯,০০০ টাকা করা হয়েছে (সরকার দেবে ৮,১০০ টাকা + কোম্পানি দেবে ৯০০ টাকা; কিছু PSU-তে ১১,০০০ টাকা পর্যন্ত)।
- এককালীন অনুদান: প্রাথমিক খরচের জন্য ৬,০০০ টাকা অনুদান ৩,০০০ টাকার দুটি সমান কিস্তিতে সরাসরি ডিবিটি (DBT) মারফত অ্যাকাউন্টে দেওয়া হচ্ছে।
- বর্ধিত বয়সসীমা ও মেয়াদ: আবেদনকারীর বয়সসীমা বাড়িয়ে ১৮ থেকে ২৫ বছর করা হয়েছে এবং ইন্টার্নশিপের মেয়াদ কাজের প্রকৃতি অনুযায়ী ৬ মাস বা ৯ মাস (পুরাতনদের ১২ মাস) নির্ধারণ করা হয়েছে।
- ফাইনাল ইয়ারদের সুযোগ: পূর্ণকালীন স্নাতক (UG) ও স্নাতকোত্তর (PG) স্তরের ফাইনাল ইয়ারের শিক্ষার্থীরা এখন কলেজের NOC জমা দিয়ে সরাসরি আবেদন করতে পারবেন।
- অফিশিয়াল পোর্টাল ও ফি: আবেদনের একমাত্র ওয়েবসাইট pminternship.mca.gov.in এবং এখানে রেজিস্ট্রেশন বা ফর্ম ফিলআপের জন্য কোনো টাকা লাগে না।
ভারতের শ্রমবাজারে সদ্য উত্তীর্ণ বা ফ্রেশার প্রার্থীদের জন্য পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়া কর্পোরেট ক্ষেত্রে প্রবেশ এবং উপযুক্ত কর্মসংস্থান খুঁজে পাওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। একাডেমিক শিক্ষা এবং শিল্পক্ষেত্রের বাস্তব দক্ষতার মধ্যকার এই ব্যবধান দূর করতে কেন্দ্রীয় কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রক (Ministry of Corporate Affairs - MCA) 'প্রধানমন্ত্রী ইন্টার্নশিপ স্কিম' (PM Internship Scheme - PMIS) পরিচালনা করছে। দেশের শীর্ষ ৫০০টি কোম্পানি এবং নিবন্ধিত ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগে (MSME) তরুণ-তরুণীদের হাতে-কলমে কাজের প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে এই প্রকল্পটি তৈরি করা হয়েছে।
তবে ২০২৬ সালের মার্চ ও এপ্রিল মাসে কেন্দ্রীয় সরকার এই প্রকল্পের নিয়মাবলীতে একাধিক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে—যার মধ্যে মাসিক স্টাইপেন্ড ৫,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯,০০০ টাকা করা, বয়সসীমা ১৮ থেকে ২৫ বছর করা এবং ফাইনাল ইয়ারের শিক্ষার্থীদের আবেদনের সুযোগ দেওয়া অন্যতম। সঠিক তথ্যের অভাবে বা সামান্য কারিগরি ত্রুটির কারণে বহু প্রার্থীর আবেদন প্রাথমিক পর্যায়েই বাতিল হয়ে যায়। তাই আবেদনের পূর্বে প্রকল্পের সংশোধিত নিয়মাবলী, অনুদান প্রদানের কিস্তি এবং সিলেকশন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে জেনে নিন।
এই আর্টিকেলে যা যা জানবেন (Quick Navigation)
- ১. প্রকল্পের প্রেক্ষাপট ও ২০২৬ সালের বড় নীতিগত পরিবর্তন
- ২. আর্থিক সুবিধা, অনুদানের কিস্তি এবং বীমা সুরক্ষা
- ৩. আবেদনকারীর যোগ্যতা, অযোগ্যতা এবং ফাইনাল ইয়ার শিক্ষার্থীদের বিশেষ ছাড়
- ৪. প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং এনওসি (NOC) ও ডিবিটি সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা
- ৫. কর্মস্থল নির্বাচন, ওয়ার্ক ফ্রম হোম বাস্তবতা এবং সেক্টরভিত্তিক সুযোগ
- ৬. অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া ও সর্বোচ্চ কোম্পানিতে আবেদনের নিয়ম
- ৭. আবেদন করার সময় সাধারণ সমস্যা ও তার বাস্তব সমাধান (Troubleshooting)
- ৮. সিলেকশন পদ্ধতি, অফার গ্রহণের সময়সীমা এবং সার্টিফিকেট প্রদানের নিয়ম
- ৯. প্রতারণা থেকে সতর্কতা, আবেদনের শেষ তারিখ এবং অফিশিয়াল হেল্পডেস্ক
- ১০. সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নোত্তর (FAQs)
১. প্রকল্পের প্রেক্ষাপট ও ২০২৬ সালের বড় নীতিগত পরিবর্তন
২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেটে প্রথম ঘোষিত এবং ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে সূচনা হওয়া এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো পাঁচ বছরে দেশের ১ কোটি (১০ মিলিয়ন) তরুণ-তরুণীকে শীর্ষস্থানীয় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপের সুযোগ করে দেওয়া। বিগত তিন বছরের গড় কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (CSR) ব্যয়ের নিরিখে দেশের শীর্ষ ৫০০টি কোম্পানিকে এই প্রকল্পের অংশীদার হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। এছাড়া ২০২৬ সালের ২৭ মে প্রকাশিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP) অনুযায়ী, বিভিন্ন সেক্টরাল অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে যোগ্য MSME ইউনিটগুলিকেও এই প্রকল্পের অধীনে ইন্টার্ন নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
পাইলট প্রজেক্টের প্রথম দুটি রাউন্ড (২০২৪-২৫ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষ) সম্পন্ন হওয়ার পর দেখা যায়, বিপুল সংখ্যক প্রার্থী অফার লেটার পাওয়া সত্ত্বেও কম স্টাইপেন্ড এবং দূরবর্তী কর্মস্থলের কারণে কাজে যোগ দেননি। এই ড্রপ-আউট হার কমাতে এবং প্রকল্পটিকে আরও আকর্ষণীয় করতে কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রক ২০২৬ সালের ১২ মার্চ (O.M. No. CSR-13/35/2024) এবং ৮ এপ্রিল নতুন নির্দেশিকা জারি করে পাইলট প্রজেক্টের মেয়াদ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে, যার অধীনে বর্তমান পর্যায়ে প্রায় ১.১০ লক্ষ ইন্টার্নশিপের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকল্পের পুরাতন পাইলট নিয়ম এবং ২০২৬ সালের সংশোধিত নির্দেশিকার মধ্যে বেশ কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে, যা আবেদনকারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সরাসরি প্রভাব ফেলে। নিচের সারণিতে এই দুই পর্যায়ের নিয়মাবলীর বিস্তারিত তুলনা তুলে ধরা হলো:
| মানদণ্ড ও বৈশিষ্ট্য | প্রাথমিক পাইলট নির্দেশিকা (২০২৪-২৫) | সংশোধিত নতুন নির্দেশিকা (মার্চ-এপ্রিল ২০২৬) |
|---|---|---|
| মাসিক স্টাইপেন্ড | প্রতি মাসে ৫,০০০ টাকা (পুরো ১২ মাসের জন্য) | প্রতি মাসে ৯,০০০ টাকা (নতুন ইন্টার্নশিপের ক্ষেত্রে; কিছু PSU-তে ১১,০০০ টাকা পর্যন্ত) |
| স্টাইপেন্ডের উৎস বিভাজন | সরকার: ৪,৫০০ টাকা (৯০%) + কোম্পানি CSR: ৫০০ টাকা (১০%) | সরকার: ৮,১০০ টাকা (৯০%) + কোম্পানি বা MSME: ৯০০ টাকা (১০%) |
| এককালীন ৬,০০০ টাকা অনুদান | কাজে যোগ দেওয়ার পর এককালীন পুরো ৬,০০০ টাকা প্রদান | ৩,০০০ টাকার দুটি কিস্তিতে প্রদান (১ম কিস্তি জয়েনিংয়ের ১৫ দিনের মধ্যে, ২য় কিস্তি ৩ মাস পূর্ণ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে) |
| প্রার্থীর বয়সসীমা | ২১ থেকে ২৪ বছর (আবেদনের শেষ তারিখের হিসেবে) | ১৮ থেকে ২৫ বছর (আবেদন জমা দেওয়ার তারিখের হিসেবে) |
| ইন্টার্নশিপের মেয়াদ | নির্দিষ্ট ১২ মাস (১ বছর) | কাজের প্রকৃতি ও কোম্পানির চাহিদা অনুযায়ী ৬ মাস অথবা ৯ মাস (পুরাতন ইন্টার্নদের জন্য ১২ মাস বহাল) |
| ফাইনাল ইয়ারের শিক্ষার্থী | পূর্ণকালীন কোর্সে পাঠরত কেউ আবেদন করতে পারতেন না | স্নাতক (UG) ও স্নাতকোত্তর (PG) স্তরের ফাইনাল ইয়ারের শিক্ষার্থীরা কলেজের NOC সহ আবেদন করতে পারবেন |
| বার্ষিক পারিবারিক আয়সীমা | সর্বোচ্চ ৮ লক্ষ টাকা (২০২৩-২৪ অর্থবর্ষ অনুযায়ী) | প্রাথমিক বিধিতে ৮ লক্ষ টাকা এবং ২০২৬-এর বর্ধিত কাঠামোয় ১২ লক্ষ টাকার নিচে |
২. আর্থিক সুবিধা, অনুদানের কিস্তি এবং বীমা সুরক্ষা
পিএম ইন্টার্নশিপ স্কিমের অধীনে নির্বাচিত প্রার্থীদের আর্থিক স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করতে বহুমুখী অনুদান ও সামাজিক সুরক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
মাসিক স্টাইপেন্ড ও অর্থ প্রদানের সময়সূচি
২০২৬ সালের সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি ইন্টার্ন প্রতি মাসে মোট ৯,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা পাবেন, যেখানে পুরাতন পাইলট ব্যাচের ইন্টার্নদের জন্য ৫,০০০ টাকার কাঠামোটি কার্যকর ছিল। এই ৯,০০০ টাকার মধ্যে:
- কোম্পানির অংশ (১০ শতাংশ): ৯০০ টাকা সংশ্লিষ্ট অংশীদার কোম্পানি বা MSME ইউনিট তাদের CSR ফান্ড বা নিজস্ব তহবিল থেকে প্রতি মাসের ৫ তারিখের মধ্যে ইন্টার্নের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা করে এবং পোর্টালে পেমেন্টের তথ্য আপলোড করে।
- সরকারি অংশ (৯০ শতাংশ): বাকি ৮,১০০ টাকা কেন্দ্রীয় সরকার ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT) পদ্ধতিতে সরাসরি প্রার্থীর আধার-সিড করা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রদান করে।
- অতিরিক্ত সুবিধা: কোচিন শিপইয়ার্ড লিমিটেডের (CSL) মতো কিছু রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা নির্দিষ্ট আইটিআই (ITI) ট্রেডের ইন্টার্নদের মাসে ১১,০০০ টাকা পর্যন্ত স্টাইপেন্ড এবং কোম্পানিগুলির নিজস্ব বিবেচনায় যাতায়াত বা অন্যান্য অতিরিক্ত সুবিধা প্রদান করে থাকে।
এককালীন ৬,০০০ টাকা অনুদান ও কিস্তির শর্ত
ইন্টার্নশিপের শুরুতে পোশাক-পরিচ্ছদ বা আনুষঙ্গিক প্রাথমিক খরচের (Incidental Expenses) জন্য সরকার আলাদাভাবে কোনো পোশাক ভাতা না দিলেও এককালীন ৬,০০০ টাকা অনুদান প্রদান করে। তবে ২০২৬ সালের নির্দেশিকা (ধারা ৫.৪.২) অনুযায়ী, এই ৬,০০০ টাকা আর একবারে দেওয়া হয় না; মাঝপথে কাজ ছেড়ে দেওয়ার প্রবণতা রুখতে এটি ৩,০০০ টাকার দুটি সমান কিস্তিতে (Tranches) DBT-এর মাধ্যমে দেওয়া হয়:
- প্রথম কিস্তি (৩,০০০ টাকা): প্রার্থীর কর্মস্থলে সশরীরে যোগদান এবং কোম্পানির HR দ্বারা পোর্টালে জয়েনিং ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে অ্যাকাউন্টে ঢোকে।
- দ্বিতীয় কিস্তি (৩,০০০ টাকা): ইন্টার্নশিপের ৩ মাস সফলভাবে পূর্ণ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে প্রদান করা হয়।
বিনামূল্যে জীবন ও দুর্ঘটনা বীমা এবং ছুটি সংক্রান্ত নিয়ম
ইন্টার্নশিপ চলাকালীন প্রতিটি প্রার্থীকে ভারত সরকারের তরফ থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে 'প্রধানমন্ত্রী জীবন জ্যোতি বীমা যোজনা' (PMJJBY) এবং 'প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষা বীমা যোজনা' (PMSBY)-এর অধীনে জীবন ও দুর্ঘটনা বীমার কভারেজ দেওয়া হয়। তবে ইন্টার্নশিপের মেয়াদ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই এই বীমা সুরক্ষার মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ (Lapse) হয়ে যায়। এছাড়া অসুস্থতা বা জরুরি কারণে কোনো ইন্টার্ন অনুমোদিত বিরতি (Sabbatical/Break) নিলে সেই বিরতিকালীন সময়ে কোনো মাসিক স্টাইপেন্ড দেওয়া হয় না এবং সাধারণ ছুটি বা হলিডে সংক্রান্ত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির নিজস্ব নিয়মাবলী কার্যকর হয়।
৩. আবেদনকারীর যোগ্যতা, অযোগ্যতা এবং ফাইনাল ইয়ার শিক্ষার্থীদের বিশেষ ছাড়
প্রকল্পের সুবিধা যাতে প্রকৃত অর্থে প্রথম প্রজন্মের চাকরিপ্রার্থী এবং সাধারণ প্রেক্ষাপটের শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছায়, সেজন্য যোগ্যতা ও অযোগ্যতার মাপকাঠি অত্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে তৈরি করা হয়েছে।
বয়সসীমা ও শিক্ষাগত যোগ্যতা
প্রার্থীদের অবশ্যই ভারতীয় নাগরিক হতে হবে এবং আবেদন জমা দেওয়ার তারিখে বয়স ১৮ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে হতে হবে, যা পূর্বে ২১ থেকে ২৪ বছর ছিল। সংরক্ষিত শ্রেণির (SC, ST, OBC) প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বয়সের ছাড়ের সংস্থান রয়েছে। আবেদনের তারিখে আপনার সঠিক বয়স ১৮ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে রয়েছে কি না তা যাচাই করতে আমাদের Age Calculator by Date of Birth টুলটি ব্যবহার করতে পারেন।
শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে ন্যূনতম মাধ্যমিক (১০ম শ্রেণি) বা উচ্চমাধ্যমিক (১২শ শ্রেণি) উত্তীর্ণ, আইটিআই (ITI) সার্টিফিকেটধারী, পলিটেকনিক ডিপ্লোমাধারী, অথবা BA, B.Sc, B.Com, BCA, BBA, B.Pharma, B.Tech প্রভৃতি সাধারণ বা কারিগরি স্নাতক ডিগ্রিধারী প্রার্থীরা আবেদন করার যোগ্য। প্রযুক্তিগত শাখার (যেমন CSE, AI & ML, Cyber Security, Robotics, Electrical, VLSI) প্রার্থীরাও ডোমেইন-ভিত্তিক রোলের জন্য আবেদন করতে পারেন।
ফাইনাল ইয়ার ও ডিস্ট্যান্স লার্নিং শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ নিয়ম
পূর্বে শুধুমাত্র অনলাইন বা ডিস্ট্যান্স লার্নিং (দূরশিক্ষা) প্রোগ্রামে নথিভুক্ত শিক্ষার্থীরাই আবেদনের যোগ্য ছিলেন এবং যেকোনো পূর্ণকালীন কোর্সের শিক্ষার্থীরা অযোগ্য বলে বিবেচিত হতেন। কিন্তু ২০২৬ সালের ৮ এপ্রিল উচ্চশিক্ষা দপ্তরের সাথে আলোচনার পর কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রক একটি বিশেষ সংযোজনী (Addendum) জারি করে জানিয়েছে যে, পূর্ণকালীন স্নাতক (UG) এবং স্নাতকোত্তর (PG) কোর্সের চূড়ান্ত বর্ষের (Final Year) শিক্ষার্থীরাও এখন থেকে আবেদন করতে পারবেন।
- ফাইনাল ইয়ারের শিক্ষার্থীদের জন্য পোর্টালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রাপ্ত 'নো অবজেকশন সার্টিফিকেট' (NOC) আপলোড করা বাধ্যতামূলক।
- কারিগরি ও সাধারণ কলেজের ফাইনাল ইয়ারের শিক্ষার্থীরা জানুয়ারি থেকে জুন মাসের ৬ মাসের নিরবচ্ছিন্ন ইন্টার্নশিপ চলাকালীনই তাদের ফাইনাল ইয়ারের একাডেমিক প্রজেক্টটি কোম্পানির ইন্ডাস্ট্রি মেন্টর এবং কলেজের ফ্যাকাল্টি মেম্বারের যৌথ তত্ত্বাবধানে (অথবা কোম্পানি অনুমতি না দিলে শুধুমাত্র কলেজ ফ্যাকাল্টির তত্ত্বাবধানে) সম্পন্ন করতে পারবেন এবং তাদের চূড়ান্ত সেমিস্টারের পরীক্ষা জুলাই মাসে নেওয়া হবে।
- তবে প্রথম বা দ্বিতীয় বর্ষের পূর্ণকালীন শিক্ষার্থীরা আবেদন করলে ডিজিলকার (DigiLocker) ভেরিফিকেশনে তা ধরা পড়ে এবং আবেদন বাতিল হয়ে যায়। যে সমস্ত কলেজ শিক্ষার্থীরা এখনও ১ম বা ২য় বর্ষে পড়ছেন, তারা পড়াশোনার আর্থিক সহায়তার জন্য Swami Vivekananda Scholarship 2026 -এর নিয়মাবলী দেখে নিতে পারেন।
পারিবারিক আয়, সরকারি চাকরি এবং উচ্চতর ডিগ্রির অযোগ্যতা
প্রার্থীর পরিবারের (নিজে, পিতা-মাতা বা স্বামী/স্ত্রী) কোনো সদস্য যদি কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের স্থায়ী বা নিয়মিত (Permanent/Regular) চাকরিজীবী হন, তবে সেই প্রার্থী আবেদন করতে পারবেন না। তবে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম হলো, পরিবারের কেউ যদি চুক্তিভিত্তিক (Contractual) সরকারি কর্মচারী হন, সেক্ষেত্রে প্রার্থী আবেদনের সম্পূর্ণ যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। পারিবারিক বার্ষিক আয়ের ক্ষেত্রে প্রাথমিক নির্দেশিকায় ৮ লক্ষ টাকা (২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে ইনকাম ট্যাক্স প্রদানকারী বা ৮ লক্ষের বেশি আয়) এবং ২০২৬ সালের সংশোধিত কাঠামোয় ১২ লক্ষ টাকার ঊর্ধ্বসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
| যোগ্যতার ক্ষেত্র (Eligible Categories) | অযোগ্যতার ক্ষেত্র (Ineligible / Excluded Categories) |
|---|---|
| ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী ভারতীয় নাগরিক (আবেদনের তারিখে) | পূর্ণকালীন চাকরিতে (Full-time Job) নিযুক্ত ব্যক্তি বা ফাইনাল ইয়ার বাদে অন্য বর্ষের রেগুলার শিক্ষার্থী |
| ১০ম, ১২শ পাস, ITI, পলিটেকনিক ডিপ্লোমা ও সাধারণ স্নাতক (BA, B.Sc, B.Com, BCA, BBA, B.Pharma, B.Tech) | দেশের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান যেমন IIT, IIM, NLU (National Law Universities), IISER, NID, IIIT এবং IISc-এর স্নাতক বা স্নাতকোত্তর উত্তীর্ণ প্রার্থী |
| অনলাইন/ডিস্ট্যান্স লার্নিংয়ের শিক্ষার্থী এবং NOC-সহ পূর্ণকালীন UG/PG ফাইনাল ইয়ারের শিক্ষার্থী | পেশাদার ডিগ্রিধারী যেমন CA, CMA, CS, MBBS, BDS, MD, MS, MPhil এবং PhD ডিগ্রিধারী (সাধারণ ক্যাটাগরিতে) |
| চুক্তিভিত্তিক (Contractual) সরকারি কর্মচারীর সন্তান বা পরিবারের সদস্য | পূর্বে NATS বা NAPS-এর অধীনে অ্যাপ্রেন্টিসশিপ বা সমতুল্য সরকারি স্কিল ট্রেনিং সম্পন্ন করা প্রার্থী |
| নির্ধারিত বার্ষিক আয়সীমার (৮ লক্ষ / সংশোধিত ১২ লক্ষ টাকা) নিচে থাকা পরিবার | যে পরিবারের কোনো সদস্য (নিজে, পিতা-মাতা বা স্বামী/স্ত্রী) স্থায়ী সরকারি চাকরিজীবী |
সরকারি নির্দেশিকা (ধারা ৫.২.৩) অনুযায়ী সাধারণ ক্যাটাগরিতে MBA বা সমতুল্য ডিগ্রিধারীদের অযোগ্য তালিকায় রাখা হলেও ২০২৬ সালের মার্চের সংস্কার ও ফাইনাল ইয়ারের PG অন্তর্ভুক্তির ফলে কিছু নির্দিষ্ট রোলে স্নাতকোত্তর ও MBA শিক্ষার্থীদের আবেদনের সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা পোর্টালে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির রিকোয়ারমেন্ট দেখে যাচাই করে নেওয়া বাঞ্ছনীয়। সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বেসরকারি কোম্পানিতে কোনো আনুষ্ঠানিক কোটা না থাকলেও পোর্টালের শর্টলিস্টিং অ্যালগরিদম তপশিলি জাতি (SC), তপশিলি উপজাতি (ST), অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (OBC) এবং বিশেষভাবে সক্ষম (PwD/Divyang) প্রার্থীদের সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ও অগ্রাধিকার নিশ্চিত করে।
৪. প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং এনওসি (NOC) ও ডিবিটি সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা
অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন ও প্রোফাইল তৈরি করার পূর্বে সমস্ত নথিপত্র পিডিএফ (PDF) ও নির্ধারিত ফরম্যাটে প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন, কারণ অসম্পূর্ণ ডকুমেন্টের কারণে ভেরিফিকেশন পর্যায়ে আবেদন বাতিল হয়ে যায়। আপনার মার্কশিট বা সার্টিফিকেটের ছবি থেকে সহজেই সঠিক সাইজের পিডিএফ তৈরি করতে Free Offline PDF Converter ব্যবহার করতে পারেন।
| প্রয়োজনীয় নথিপত্র (Documents) | ফরম্যাট ও বিশেষ শর্তাবলী | ব্যবহারের উদ্দেশ্য |
|---|---|---|
| আধার কার্ড (Aadhaar Card) | সচল মোবাইল নম্বরের সাথে লিঙ্ক থাকা বাধ্যতামূলক | ওটিপি বা ডিজিলকারের মাধ্যমে ই-কেওয়াইসি (e-KYC) সম্পন্ন করা |
| শিক্ষাগত মার্কশিট ও সার্টিফিকেট | ১০ম শ্রেণি থেকে সর্বোচ্চ যোগ্যতার সার্টিফিকেট (PDF ফরম্যাটে) | যোগ্যতা যাচাই ও স্বয়ংক্রিয় সিভি (Resume) তৈরি |
| ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের পাসবই | অ্যাকাউন্ট নম্বর ও IFSC কোড (আধার ও NPCI-DBT লিঙ্কড) | মাসিক স্টাইপেন্ড ও এককালীন অনুদান সরাসরি অ্যাকাউন্টে গ্রহণ |
| পাসপোর্ট সাইজ ছবি ও স্বাক্ষর | পরিষ্কার ছবি (সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড বাঞ্ছনীয়) | প্রোফাইল ও অফিশিয়াল আইডি জেনারেট করা |
| ইনকাম সার্টিফিকেট বা সেলফ-ডিক্লারেশন | পারিবারিক বার্ষিক আয়ের ঘোষণাপত্র | পারিবারিক আয় নির্ধারিত সীমার মধ্যে রয়েছে তা প্রমাণ করা |
| ডোমিসাইল বা ঠিকানার প্রমাণপত্র | রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা বা ঠিকানার প্রমাণ | রাজ্য ও পছন্দের জেলা/লোকেশন ভেরিফিকেশন |
| কলেজের এনওসি (NOC) | শুধুমাত্র ফাইনাল ইয়ারের UG/PG শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক | ইন্টার্নশিপ চলাকালীন একাডেমিক ক্লাসের সাথে সংঘাত না হওয়ার প্রমাণ |
| কাস্ট ও প্রতিবন্ধকতা সার্টিফিকেট | SC / ST / OBC / EWS বা PwD সার্টিফিকেট (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) | শর্টলিস্টিং ও বয়সের ছাড়ের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার প্রাপ্তি |
৫. কর্মস্থল নির্বাচন, ওয়ার্ক ফ্রম হোম বাস্তবতা এবং সেক্টরভিত্তিক সুযোগ
পিএম ইন্টার্নশিপ স্কিমে তথ্যপ্রযুক্তি (IT), ব্যাঙ্কিং ও ফিন্যান্স, ইঞ্জিনিয়ারিং ও ম্যানুফ্যাকচারিং, অটোমোবাইল, এনার্জি, হেলথকেয়ার, রিটেল, কৃষি এবং মিডিয়া-সহ ২০টিরও বেশি সেক্টরে ইন্টার্নশিপের সুযোগ রয়েছে। ফর্ম ভরার সময় পোর্টালে নিজের রাজ্য, জেলা এবং পিনকোড অনুযায়ী কোম্পানি ও কাজের জায়গা ফিল্টার করার সুবিধা থাকে, যার ফলে প্রার্থীরা নিজেদের জেলা বা রাজ্যের মধ্যেই পোস্টিং বেছে নিতে পারেন।
তবে কর্মস্থল বাছাইয়ের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের মেট্রো শহরগুলির প্রাধান্য এবং সশরীরে কাজের বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখা প্রয়োজন:
- মেট্রো ও শিল্পাঞ্চলের প্রাধান্য: বিগত রাউন্ডগুলির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট ইন্টার্নশিপ অফারের প্রায় ৭০ শতাংশই দেশের ৭টি প্রধান মেট্রো শহর এবং শিল্পাঞ্চলে (Industrial Hubs) কেন্দ্রীভূত ছিল। লোকসভায় পেশ করা তথ্য অনুযায়ী, বাড়ি থেকে কর্মস্থলের অতিরিক্ত দূরত্বই ছিল প্রার্থীদের মাঝপথে কাজ ছেড়ে দেওয়ার এক নম্বর কারণ। তাই শুধুমাত্র বাড়ির পাশের পিনকোডে সীমাবদ্ধ না থেকে যেসব শিল্পাঞ্চলে যাতায়াত করা বা ৫ থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে থেকে কাজ করা সম্ভব, তেমন বাস্তবসম্মত শহর নির্বাচন করলে সিলেকশনের সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়।
- ওয়ার্ক ফ্রম হোম (WFH) বাস্তবতা: এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো বাস্তব কর্পোরেট কর্মপরিবেশের সাথে পরিচয় করানো এবং সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী ইন্টার্নশিপের মোট সময়ের অন্তত অর্ধেক (৫০ শতাংশ) সময় ক্লাসরুমের বাইরে আসল কাজের পরিবেশে (Actual Working Environment) কাটানো বাধ্যতামূলক। ফলে পোর্টালে মাত্র ৫ শতাংশেরও কম রোলে 'ওয়ার্ক ফ্রম হোম' বা রিমোট কাজের সুযোগ থাকে এবং সিংহভাগ ক্ষেত্রেই অফিসে বা প্ল্যান্টে সশরীরে উপস্থিত থেকে কাজ করতে হয়।
৬. অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া ও সর্বোচ্চ কোম্পানিতে আবেদনের নিয়ম
পিএম ইন্টার্নশিপ স্কিমে আবেদনের জন্য একমাত্র অফিশিয়াল ওয়েবসাইট হলো pminternship.mca.gov.in এবং গুগল প্লে স্টোরে কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রকের অফিশিয়াল মোবাইল অ্যাপও উপলব্ধ রয়েছে।
ধাপে ধাপে রেজিস্ট্রেশন ও প্রোফাইল তৈরি
- ধাপ ১ (Youth Registration): প্রথমে অফিশিয়াল পোর্টালে গিয়ে 'Youth Registration' বা 'Register Now' অপশনে ক্লিক করতে হবে।
- ধাপ ২ (মোবাইল ও ইমেইল ভেরিফিকেশন): সেখানে আধার লিঙ্ক করা সচল মোবাইল নম্বর ও ব্যক্তিগত ইমেইল আইডি দিয়ে ওটিপি ভেরিফাই করতে হবে।
- ধাপ ৩ (আধার ই-কেওয়াইসি): এরপর আধার ওটিপি অথবা ডিজিলকার (DigiLocker) অ্যাপের মাধ্যমে ই-কেওয়াইসি (e-KYC) সম্পন্ন করতে হবে।
- ধাপ ৪ (ডিজিটাল রিজিউমে তৈরি): প্রোফাইলে শিক্ষাগত যোগ্যতা, দক্ষতা ও ব্যাঙ্ক ডিটেইলস ভরার পর পোর্টাল স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রার্থীর একটি ডিজিটাল রিজিউমে বা সিভি (Resume) তৈরি করে দেয়।
সর্বোচ্চ কয়টি কোম্পানিতে আবেদন করা যাবে?
প্রোফাইল সম্পূর্ণ হওয়ার পর 'View & Apply Internship' অপশনে গিয়ে প্রার্থীরা তাদের যোগ্যতা, পছন্দের সেক্টর ও লোকেশন অনুযায়ী এক একটি সাইকেলে সর্বোচ্চ ৩ থেকে ৫টি ইন্টার্নশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে পর্যন্ত একজন প্রার্থী যতবার খুশি তার পছন্দের অপশনগুলি পরিবর্তন (Modify) করতে বা কোনো আবেদন প্রত্যাহার (Withdraw) করে নতুন কোম্পানিতে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের আগে পোর্টালে দেওয়া 'Category A Eligible Companies List' পিডিএফটি দেখে কোম্পানিটি তালিকাভুক্ত কি না তা যাচাই করে নেওয়া নিরাপদ।
৭. আবেদন করার সময় সাধারণ সমস্যা ও তার বাস্তব সমাধান (Troubleshooting)
বাস্তবে ফর্ম ফিলআপ করতে গিয়ে বহু প্রার্থী ছোটখাটো টেকনিক্যাল সমস্যার সম্মুখীন হন বা অজান্তেই এমন কিছু ভুল করেন যার ফলে আবেদনটি প্রাথমিক পর্যায়েই রিজেক্ট হয়ে যায়। আমাদের বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রধান সমস্যা ও সেগুলির নিখুঁত সমাধান নিচে তুলে ধরা হলো:
১. পাসওয়ার্ড তৈরির অফিশিয়াল নিয়মাবলী ও লগইন এরর
অনেক প্রার্থী প্রথমবার লগইন করার পর পাসওয়ার্ড সেট করতে গিয়ে সমস্যার সম্মুখীন হন। পোর্টালের নিয়ম অনুযায়ী, প্রাথমিক পাসওয়ার্ডটি এসএমএস-এর মাধ্যমে মোবাইলে আসে এবং সেটি কেস-সেনসিটিভ (Case-sensitive) হয়। নতুন পাসওয়ার্ড তৈরি করার সময় তাতে ন্যূনতম ৮টি ক্যারেক্টার থাকতে হবে, যার মধ্যে অন্তত একটি বড় হাতের অক্ষর (A-Z), একটি ছোট হাতের অক্ষর (a-z), একটি সংখ্যা (0-9) এবং একটি স্পেশাল ক্যারেক্টার (!, @, #, $, %, &, *) থাকা বাধ্যতামূলক—যেমন Riya@2002 বা Abcdef123#।
২. ওটিপি (OTP) না আসা ও সার্ভার ট্রাফিক ট্রাবলশুটিং
সার্ভারে অতিরিক্ত ট্রাফিকের কারণে ওটিপি আসতে দেরি হলে বা বারবার রিসেন্ড করার ফলে একাধিক ওটিপি এলে সর্বদা সর্বশেষ প্রাপ্ত (Latest) ওটিপি-টি ব্যবহার করতে হবে। পেজ বারবার রিফ্রেশ না করে কিছু সময় অপেক্ষা করে কম ট্রাফিকের সময়ে (যেমন সকাল ৮টার আগে বা রাত ১০টার পর) পুনরায় চেষ্টা করা শ্রেয়।
৩. 'Apply' বাটন লুকানো (Hidden) থাকার সমস্যা ও কলেজের ইমেইল ব্যবহার
পোর্টালের নিয়ম অনুযায়ী, আধার বা ডিজিলকারের মাধ্যমে ই-কেওয়াইসি (e-KYC) সম্পূর্ণ না করলে ইন্টার্নশিপের সম্পূর্ণ বিবরণ এবং 'Apply' বাটনটি লুকানো (Hidden) থাকে। তাই প্রোফাইল ১০০% সম্পূর্ণ করার পরই আবেদন করুন। পাশাপাশি, রেজিস্ট্রেশনের সময় কখনোই কলেজের অফিশিয়াল ইমেইল আইডি ব্যবহার করবেন না; কারণ স্নাতক উত্তীর্ণ হওয়ার পর কলেজের ইমেইল নিষ্ক্রিয় হয়ে গেলে অফার লেটার বা ড্যাশবোর্ড অ্যালার্ট পেতে সমস্যা হয়। সর্বদা নিজের ব্যক্তিগত ইমেইল ব্যবহার করতে হবে।
৪. ফাইনাল ইয়ার শিক্ষার্থীদের এনওসি (NOC) বাতিলের কারণ ও সঠিক নিয়ম
প্রথম ও দ্বিতীয় রাউন্ডের আবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ফাইনাল ইয়ারের বহু শিক্ষার্থীর আবেদন শুধুমাত্র ত্রুটিপূর্ণ এনওসি-র কারণে বাতিল হয়েছে। সরকারি নির্দেশিকা (O.M. dated 08.04.2026) অনুযায়ী:
- এনওসি অবশ্যই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অফিশিয়াল লেটারহেডে (Annexure ফরম্যাটে) হতে হবে।
- তাতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে যে এই ইন্টার্নশিপ শিক্ষার্থীর একাডেমিক প্রয়োজনীয়তায় কোনো বিঘ্ন ঘটাবে না ("will not interfere with academic requirements")।
- বিশ্ববিদ্যালয় বা ডিমড ইউনিভার্সিটির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রধান (Head of Department - HOD) বা অনুমোদিত প্রধানের স্বাক্ষর ও অফিশিয়াল সিল থাকা বাধ্যতামূলক।
৫. ডিবিটি (DBT) এবং আধার সিডিংয়ের সতর্কতা (টাকা না ঢোকার প্রধান কারণ)
প্রকল্পের সরকারি অংশের টাকা (মাসিক ৮,১০০ টাকা এবং এককালীন ৬,০০০ টাকা অনুদান) শুধুমাত্র Direct Benefit Transfer (DBT) মারফত প্রেরণ করা হয়। সাধারণ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আধার নম্বর দেওয়া থাকলেই (Aadhaar KYC) ডিবিটি সচল হয় না; ব্যাঙ্কে গিয়ে বা অনলাইনে NPCI পোর্টালে চেক করে নিশ্চিত করতে হবে যে অ্যাকাউন্টটিতে Aadhaar Seeding বা NPCI-DBT Mapping সক্রিয় রয়েছে। যতক্ষণ না একজন ইন্টার্ন সশরীরে কাজে যোগ দিচ্ছেন, কোম্পানির HR পোর্টালে জয়েনিং ভেরিফাই করছেন এবং আধার সিডিং প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হচ্ছে, ততক্ষণ কোনো টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকবে না।
৮. সিলেকশন পদ্ধতি, অফার গ্রহণের সময়সীমা এবং সার্টিফিকেট প্রদানের নিয়ম
এই প্রকল্পের অধীনে প্রার্থীদের কোনো কেন্দ্রীয় লিখিত পরীক্ষা দিতে হয় না; পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াটি পোর্টালের স্বয়ংক্রিয় শর্টলিস্টিং এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানির মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করে।
শর্টলিস্টিং অনুপাত ও ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া
প্রার্থীরা আবেদন জমা দেওয়ার পর পোর্টালটি প্রার্থীর একাডেমিক নম্বর, দক্ষতা, বয়স, লোকেশন এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তির (SC/ST/OBC/PwD) মাপকাঠি বিচার করে শর্টলিস্টিং সম্পন্ন করে। প্রতিটি কোম্পানিতে যতগুলি শূন্যপদ থাকে, পোর্টাল থেকে তার ২ থেকে ৩ গুণ (Twice or Thrice) প্রার্থীর সিভি সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কাছে পাঠানো হয়। এরপর কোম্পানির HR টিম সেই তালিকা থেকে ডকুমেন্ট স্ক্রিনিং করে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অনলাইন (ভার্চুয়াল) বা সশরীরে এক বা দুটি রাউন্ডের ইন্টারভিউ নেয়। ইন্টারভিউতে সাধারণত টেকনিক্যাল বিষয়ের পাশাপাশি আচরণগত ও পরিস্থিতিগত প্রশ্ন (যেমন ডেডলাইন মিস হলে কীভাবে পরিস্থিতি সামলানো হবে বা কাজের ফিডব্যাক কীভাবে গ্রহণ করা হয়) জিজ্ঞাসা করা হয়। সশরীরে ইন্টারভিউয়ের ডাক পেলে সমস্ত অরিজিনাল ডকুমেন্ট এবং সেগুলির সেলফ-অ্যাটেস্টেড ফটোকপি সাথে রাখা আবশ্যক।
অফার গ্রহণ, জয়েনিং ও পেনাল্টি নিয়মাবলী
- একজন প্রার্থী এক সাইকেলে সর্বোচ্চ ২টি ইন্টার্নশিপ অফার পেতে পারেন। অফার লেটার সরাসরি প্রার্থীর পোর্টাল ড্যাশবোর্ড, রেজিস্টার্ড ইমেইল এবং এসএমএস-এর মাধ্যমে পাঠানো হয়, তাই আবেদনের পর প্রতি ২ থেকে ৩ দিন অন্তর ড্যাশবোর্ড চেক করা জরুরি।
- প্রোভিশনাল অফার লেটার পাওয়ার পর স্টাইপেন্ড, লোকেশন ও শর্তাবলী ভালো করে পড়ে নিয়ে ১৪ দিনের মধ্যে যেকোনো একটি অফার গ্রহণ (Accept) বা প্রত্যাখ্যান (Reject) করতে হবে; এই ১৪ দিনের নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কোনো পদক্ষেপ না নিলে অফারটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল (Lapse) হয়ে যায়।
- অফার গ্রহণ করার পর সাধারণত ৩০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে ইন্টার্নশিপ শুরু হয়।
- পেনাল্টি নিয়ম: কোনো প্রার্থী অফার অ্যাকসেপ্ট করার পর যদি কাজে যোগ না দেন, তবে তাকে পেনাল্টি হিসেবে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ওয়েটিং পিরিয়ডে পাঠানো হতে পারে এবং দুবার ইন্টার্নশিপ মাঝপথে ছেড়ে দিলে (Leaving twice) তাকে প্রকল্প থেকে চিরতরে অযোগ্য (Disqualified) ঘোষণা করা হয়। কোনো কারণে ৩টি বা ৫টি পছন্দের কোনোটিতেই সিলেকশন না হলে প্রার্থী পরবর্তী সাইকেলে পুনরায় আবেদন করতে পারবেন।
কমপ্লিশন সার্টিফিকেট বনাম পার্টিসিপেশন সার্টিফিকেট
নির্ধারিত ৬, ৯ বা ১২ মাসের মেয়াদ সফলভাবে পূর্ণ করলে ভারত সরকার ও সংশ্লিষ্ট কোম্পানির পক্ষ থেকে একটি ভ্যালিড 'ইন্টার্নশিপ কমপ্লিশন সার্টিফিকেট' প্রদান করা হয়। মাঝপথে ইন্টার্নশিপ ছেড়ে দিলে মাসিক ভাতা বন্ধ হয়ে যায় এবং কমপ্লিশন সার্টিফিকেট পাওয়া যায় না। তবে ২০২৬ সালের সংশোধিত নির্দেশিকার (Annexure-II, ধারা ২.১১) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নতুন নিয়ম হলো—কোনো ইন্টার্ন যদি নির্ধারিত ইন্টার্নশিপ মেয়াদের অন্তত অর্ধেক সময় (৫০ শতাংশ মেয়াদ) পূর্ণ করার পর অনিবার্য কারণে কাজ ছেড়ে দেন (Drop out), তবে তিনি পোর্টালে আবেদনের ভিত্তিতে একটি অফিশিয়াল 'PMIS Participation Certificate' (অংশগ্রহণমূলক শংসাপত্র) পেতে পারেন। এই ইন্টার্নশিপ কোনো স্থায়ী সরকারি বা বেসরকারি চাকরির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে ভালো পারফরম্যান্স দেখালে অনেক কোম্পানি তাদের নিজস্ব হায়ারিং পাইপলাইনের মাধ্যমে ইন্টার্নদের স্থায়ী চাকরির সুযোগ দেয়।
৯. প্রতারণা থেকে সতর্কতা, আবেদনের শেষ তারিখ এবং অফিশিয়াল হেল্পডেস্ক
আবেদনের শেষ তারিখ ও রোলিং মডেল (Rolling Model)
অনেকেই পিএম ইন্টার্নশিপ স্কিমের নির্দিষ্ট শেষ তারিখ বা ডেডলাইন নিয়ে বিভ্রান্তিতে থাকেন। প্রকৃত তথ্য হলো, ২০২৬ সালের ২০ মার্চ থেকে শুরু হওয়া তৃতীয় রাউন্ড (Round 3) একটি 'রোলিং মডেল' (Rolling Basis)-এ চলছে। অর্থাৎ পুরো প্রকল্পের জন্য একটি নির্দিষ্ট শেষ তারিখ নেই; পাইলট প্রজেক্টটি ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত চলবে এবং কোম্পানিগুলি সারা বছর ধরে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন শূন্যপদ পোর্টালে পোস্ট করতে থাকে। প্রতিটি আলাদা পোস্টিংয়ের শূন্যপদ পূরণ হয়ে গেলেই সেই নির্দিষ্ট কোম্পানিটির আবেদন বন্ধ হয়ে যায়, তাই কোনো পছন্দের রোল লাইভ থাকা অবস্থাতেই দ্রুত আবেদন সেরে ফেলা উচিত।
প্রতারকদের ফাঁদ থেকে সতর্কতা
পিএম ইন্টার্নশিপ স্কিমে রেজিস্ট্রেশন, ফর্ম ফিলআপ, শর্টলিস্টিং বা অফার লেটার পাওয়ার জন্য কোনো পর্যায়েই এক পয়সাও ফি লাগে না (Application Fee: Nil)। কোনো এজেন্ট, থার্ড পার্টি ওয়েবসাইট বা নকল অ্যাপ যদি টাকার বিনিময়ে ইন্টার্নশিপ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখায়, তবে তা সম্পূর্ণ প্রতারণা। শুধুমাত্র অফিশিয়াল ডোমেইন pminternship.mca.gov.in এবং সরকারি myscheme.gov.in/schemes/pmis পোর্টালের তথ্যের ওপরই নির্ভর করা উচিত। কীভাবে সরকারি পোর্টালে নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী সঠিক স্কিম খুঁজবেন তা জানতে আমাদের MyScheme Portal 2026: আপনার জন্য কোন সরকারি স্কিমটি সঠিক? গাইডটি পড়তে পারেন।
অভিযোগ জানানোর পদ্ধতি ও অফিশিয়াল যোগাযোগের ঠিকানা
ফর্ম ভরতে গিয়ে ওটিপি সমস্যা, পাসওয়ার্ড ত্রুটি, পোর্টাল ক্র্যাশ বা ডিবিটি-র টাকা না ঢোকার মতো যেকোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে প্রার্থীরা সরাসরি পোর্টালে টিকিট রেইজ (Raise Ticket) করতে পারেন। এজন্য পোর্টালে লগইন করে সাপোর্ট বা কমপ্লেইন্টস সেকশনে গিয়ে সমস্যার ক্যাটাগরি নির্বাচন করে স্ক্রিনশট ও নিজের ক্যান্ডিডেট আইডি-সহ অভিযোগ জমা দেওয়া যায়। নিচের সারণিতে অফিশিয়াল যোগাযোগের সমস্ত মাধ্যম ও ঠিকানা দেওয়া হলো:
| সহায়তার মাধ্যম | অফিশিয়াল বিবরণ ও যোগাযোগের তথ্য |
|---|---|
| পোর্টাল গ্রিভ্যান্স ও টিকিট | লগইন করার পর Home >> Support >> Raise Request অথবা বামদিকের মেনুতে Complaints (DBT, Internship, বা Portal ক্যাটাগরি) |
| টোল-ফ্রি হেল্পলাইন নম্বর | 1800-11-6090 / 1800-116-090 (বহুভাষিক পরিষেবা উপলব্ধ) |
| অফিশিয়াল হেল্পডেস্ক ইমেইল | pminternship@mca.gov.in (মোবাইল অ্যাপ সংক্রান্ত সহায়তার জন্য mca21v3appteam@mca.gov.in) |
| মন্ত্রকের দপ্তরের ঠিকানা | PMIS Cell, Ministry of Corporate Affairs, 3rd Floor, Kartavya Bhawan 1, Kartavya Path (এছাড়া A Wing, Shastri Bhawan, Rajendra Prasad Road), New Delhi - 110001 |
১০. সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নোত্তর (FAQs)
প্রশ্ন ১: পিএম ইন্টার্নশিপ স্কিমে ২০২৬ সালের নতুন নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসে কত টাকা স্টাইপেন্ড দেওয়া হয়?
উত্তর: ২০২৬ সালের মার্চ ও এপ্রিল মাসের সংশোধিত নির্দেশিকা অনুযায়ী, পিএম ইন্টার্নশিপ স্কিমে নির্বাচিত নতুন ইন্টার্নদের প্রতি মাসে মোট ৯,০০০ টাকা স্টাইপেন্ড দেওয়া হয়। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT) পদ্ধতিতে ৮,১০০ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানি বা MSME ইউনিট ৯০০ টাকা প্রদান করে। এছাড়া এককালীন ৬,০০০ টাকার অনুদান ৩,০০০ টাকার দুটি কিস্তিতে দেওয়া হয়।
প্রশ্ন ২: কলেজের ফাইনাল ইয়ারের শিক্ষার্থীরা কি পিএম ইন্টার্নশিপ স্কিমে আবেদন করতে পারবেন?
উত্তর: হ্যাঁ, ২০২৬ সালের ৮ এপ্রিল জারি করা নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী পূর্ণকালীন স্নাতক (UG) এবং স্নাতকোত্তর (PG) স্তরের ফাইনাল ইয়ারের শিক্ষার্থীরা এই প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন। তবে আবেদনের সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অফিশিয়াল লেটারহেডে বিভাগীয় প্রধান (HOD) বা অনুমোদিত আধিকারিকের স্বাক্ষরিত 'নো অবজেকশন সার্টিফিকেট' (NOC) আপলোড করা বাধ্যতামূলক।
প্রশ্ন ৩: পরিবারের কেউ চুক্তিভিত্তিক সরকারি কর্মচারী হলে কি পিএম ইন্টার্নশিপ স্কিমে আবেদন করা যাবে?
উত্তর: হ্যাঁ, পরিবারের কোনো সদস্য যদি কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের স্থায়ী বা নিয়মিত (Permanent/Regular) চাকরিজীবী হন কেবল তখনই প্রার্থী অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। কিন্তু পরিবারের কেউ যদি চুক্তিভিত্তিক (Contractual) সরকারি কর্মচারী হন এবং পারিবারিক বার্ষিক আয় নির্ধারিত সীমার নিচে থাকে, তবে সেই প্রার্থী আবেদনের সম্পূর্ণ যোগ্য।
উপসংহার
পিএম ইন্টার্নশিপ স্কিম ২০২৬-এর সংশোধিত কাঠামোটি ভারতের তরুণ সমাজের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত পদক্ষেপে পরিণত হয়েছে। মাসিক স্টাইপেন্ড ৯,০০০ টাকায় উন্নীত হওয়া, ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী প্রার্থীদের অন্তর্ভুক্তি, ৬ বা ৯ মাসের নমনীয় মেয়াদ এবং ফাইনাল ইয়ারের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের এনওসি-সহ আবেদনের সুযোগ দেওয়ার ফলে প্রকল্পের গ্রহণযোগ্যতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যে সমস্ত প্রার্থী নিজেদের শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী সঠিক ডকুমেন্টেশন, আধার-সিড করা ডিবিটি অ্যাকাউন্ট এবং বাস্তবসম্মত লোকেশন নির্বাচন করে পোর্টালে দ্রুত আবেদন সম্পন্ন করবেন, তাদের সিভিতে দেশের শীর্ষ কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে কাজের অভিজ্ঞতা ও সরকারি শংসাপত্র ভবিষ্যৎ চাকরির বাজারে এক বিরাট প্রতিযোগিতামূলক অগ্রাধিকার এনে দেবে। এই প্রকল্পে আবেদন করতে গিয়ে আপনার যদি কোনো প্রশ্ন বা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়, তবে নিচে থাকা রিভিউ বা কমেন্ট বক্সে আমাদের জানান!