Promo Offer
Loading Update...
View Details / Apply Now
ON
ONLINE NIL

পশ্চিমবঙ্গের জোড়া পেনশন প্রকল্প ২০২৬: মাসে ১০,০০০ ও ৫,০০০ টাকা ভাতা, ৫ লাখের বিমা ও অফলাইন ফর্ম (Notice 86/ICA/NB)

✍️ লেখক ও তথ্য যাচাইকারী: নীল (জগন্নাথ দাস) — সরকারি প্রকল্প ও ডিজিটাল পরিষেবা বিশ্লেষক
📅 সর্বশেষ আপডেট: অক্টোবর ২০২৬ | 🏛️ অফিসিয়াল স্মারক সংখ্যা: Notice No. 86/ICA/NB
তথ্যসূত্র ও ডিসক্লেইমার: এই প্রতিবেদনটি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের (I&CA Dept) বিজ্ঞপ্তি নং 86/ICA/NB এবং ২০২৬ সালের সরকারি বাজেটের প্রামাণ্য তথ্যের ওপর ভিত্তি করে জনস্বার্থে তৈরি।

এক নজরে মূল হাইলাইটস (Key Takeaways)

  • জোড়া পেনশন কার্যকর: রাজ্যে চালু হলো ‘পশ্চিমবঙ্গ লোকতন্ত্র সেনানী সম্মান’ (মাসে ১০,০০০ টাকা ভাতা + ১,০০০ টাকা চিকিৎসা সহায়তা) এবং ‘পশ্চিমবঙ্গ সাংবাদিক পেনশন প্রকল্প ২০২৬’ (মাসে ৫,০০০ টাকা পেনশন)।
  • অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি ও তারিখ: তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের বিজ্ঞপ্তি নম্বর হলো 86/ICA/NB (তারিখ: ২৪ আগস্ট ২০২৬)। অফলাইনে আবেদন ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে শুরু হয়েছে (প্রথম পর্যায়ের শেষ তারিখ: ৭ অক্টোবর ২০২৬)।
  • ৩৮,০০০ হাসপাতালে ৫ লাখের ক্যাশলেস বিমা: ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা’য় রাজ্যের ১,৯০০টি এবং সারা ভারতের ৩৮,০০০টি তালিকাভুক্ত হাসপাতালে (AIIMS, CMC Vellore, Tata Cancer, PGI সহ) সপরিবারে বার্ষিক ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ফ্রি চিকিৎসা।
  • পুজো অনুদানে বৈষম্য বিলোপ: আগে কলকাতায় ২,০০০ টাকা ও জেলায় ১,০০০ টাকা অনুদানের যে বৈষম্য ছিল, তা তুলে দিয়ে সর্বত্র সমপরিমাণ ৩,০০০ টাকা পুজো বোনাস করা হয়েছে।
  • ১৫০ জনের সীমা প্রত্যাহার: ২০১৮ সালের পুরনো স্কিমে মাত্র ১৫০-১৫৪ জন পেনশন পেতেন; এবার সেই ঊর্ধ্বসীমা তুলে নেওয়া হয়েছে এবং কোনো রাজনৈতিক বা মন্ত্রী পর্যায়ের সুপারিশ লাগবে না।

২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্য সরকার সমাজের দুই বিশেষ স্তরের মানুষের সামাজিক ও আর্থিক সুরক্ষার জন্য দুটি ঐতিহাসিক পেনশন প্রকল্প কার্যকর করেছে। প্রথমটি হলো ১৯৭৫-৭৭ সালের জরুরি অবস্থার সময় গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে কারাবরণকারী সংগ্রামীদের জন্য ‘পশ্চিমবঙ্গ লোকতন্ত্র সেনানী সম্মান’ (মাসিক ১০,০০০ টাকা ভাতা ও অতিরিক্ত ১,০০০ টাকা চিকিৎসা সহায়তা)। দ্বিতীয়টি হলো রাজ্যের অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য ‘পশ্চিমবঙ্গ সাংবাদিক পেনশন প্রকল্প ২০২৬’ (মাসিক ৫,০০০ টাকা পেনশন, ৩,০০০ টাকা পুজো অনুদান এবং ৫ লক্ষ টাকার সর্বভারতীয় স্বাস্থ্যবিমা)। সরকারি বিজ্ঞপ্তি, নবান্নের অফিসিয়াল গাইডলাইন এবং বাজেটের প্রামাণ্য তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই দুটি প্রকল্পের আবেদনের শেষ তারিখ, ফর্ম জমা দেওয়ার সঠিক ঠিকানা, যোগ্যতার সূক্ষ্ম শর্তাবলি এবং ভালো-খারাপ দিকগুলো নিচে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।

পশ্চিমবঙ্গের জোড়া পেনশন প্রকল্প ২০২৬: মাসে ১০,০০০ ও ৫,০০০ টাকা ভাতা, ৫ লাখের বিমা ও অফলাইন ফর্ম (Notice 86/ICA/NB)

এই আর্টিকেলে যা যা জানবেন (Quick Navigation)

১. এক নজরে পশ্চিমবঙ্গের দুটি নতুন পেনশন প্রকল্প (২০২৬)

সময়ের অভাবে যাঁরা পুরো বিজ্ঞপ্তিটি পড়তে পারছেন না, তাঁদের সুবিধার্থে দুটি প্রকল্পের সরকারি সূচনা, যোগ্যতা এবং সুবিধার মূল পার্থক্যগুলো নিচের কালারফুল টেবিলে সাজিয়ে দেওয়া হলো:

মূল বিষয় পশ্চিমবঙ্গ লোকতন্ত্র সেনানী সম্মান ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ সাংবাদিক পেনশন প্রকল্প ২০২৬
সরকারি বিজ্ঞপ্তি ও সূচনা ৯ আগস্ট ২০২৬ (নতুন সরকারের ৯০ দিন পূর্তিতে নবান্ন সভাঘর থেকে সূচনা) নোটিশ নং 86/ICA/NB (তারিখ: ২৪.০৮.২০২৬); ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর
কারা আবেদন করতে পারবেন? ১৯৭৫-৭৭ সালের জরুরি অবস্থায় (MISA/DIR আইনে) কারাবন্দি গণতন্ত্রকামী প্রতিবাদীরা ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সের অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিক, ফটোজার্নালিস্ট, করেসপন্ডেন্ট, ক্যামেরাপার্সন ও নিউজ প্রোডাকশন কর্মীরা
মাসিক পেনশনের পরিমাণ ১০,০০০ টাকা (জরুরি অবস্থায় জেল খাটা সাংবাদিকরাও ১০,০০০ টাকা পাবেন) ৫,০০০ টাকা (২০১৮ সালের পুরনো স্কিমে এটি ২,৫০০ টাকা ছিল)
চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যবিমা সুবিধা মাসে অতিরিক্ত ১,০০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা ও সরকারি হাসপাতালে বিশেষ সুবিধা ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা’য় দেশের ৩৮,০০০ ও রাজ্যের ১,৯০০ হাসপাতালে ৫ লক্ষ টাকার ক্যাশলেস চিকিৎসা
অন্যান্য বিশেষ সুবিধা তাম্রপদক (Copper Plaque) সম্মাননা এবং রাজ্যের সমস্ত সরকারি বাসে আজীবন বিনামূল্যে যাতায়াত কলকাতা ও জেলার বৈষম্য ঘুচিয়ে দুর্গাপুজোয় সমপরিমাণ ৩,০০০ টাকা বিশেষ অনুদান
ফ্যামিলি পেনশন ও বকেয়া নিয়ম উপভোক্তার অবর্তমানে তাঁর জীবিত স্বামী বা স্ত্রী আজীবন এই ভাতা ও সুবিধা পাবেন ফ্যামিলি পেনশন নেই; তবে মৃত্যুর দিন পর্যন্ত বকেয়া টাকা (Arrears) বৈধ উত্তরাধিকারী পাবেন
আবেদনের মাধ্যম ও শেষ তারিখ জেলাশাসকের দপ্তর (DM Office) ও লোকতন্ত্র সেনানী সংঘের মাধ্যমে নবান্নে তালিকাভুক্তি সম্পূর্ণ অফলাইনে নবান্নের তথ্য অধিকর্তার দপ্তরে জমা (প্রথম পর্যায়ের শেষ তারিখ: ৭ অক্টোবর ২০২৬)
📊 FINANCIAL OUTLAY DASHBOARD

বার্ষিক সরাসরি আর্থিক সহায়তার তুলনা: লোকতন্ত্র সেনানীদের ১.৩২ লক্ষ টাকা এবং প্রবীণ সাংবাদিকদের ৬৩,০০০ টাকা

পশ্চিমবঙ্গের জোড়া পেনশন প্রকল্পে একজন উপভোক্তার বার্ষিক মোট প্রাপ্ত ক্যাশ ট্রান্সফার এবং অতিরিক্ত সুরক্ষার সম্পূর্ণ হিসাব:

ANNUAL DIRECT FINANCIAL OUTLAY (PER BENEFICIARY)
মূল বার্ষিক পেনশন (Base Pension)    অতিরিক্ত নগদ ভাতা (Supplementary Cash)
Loktantra Senani Samman (2026) মোট ₹1,32,000 / বছর
₹1,20,000 (Base)
+₹12k
Journalist Pension Scheme (2026) মোট ₹63,000 / বছর (+ ₹5L Health Cover)
₹60,000 (Base)
+₹3k
🎖️ লোকতন্ত্র সেনানী সম্মান ✓ Spouse Covered

১৯৭৫-৭৭ সালের জরুরি অবস্থায় কারাবন্দিদের জন্য। রাজ্যে প্রাথমিকভাবে ৩২৫ জন স্বীকৃত উপভোক্তা অন্তর্ভুক্ত।

মূল মাসিক পেনশন: ₹১০,০০০ / মাস
চিকিৎসা ভাতা: ₹১,০০০ / মাস (₹১২,০০০/বছর)
যাতায়াত সুবিধা: সরকারি বাসে আজীবন ফ্রি পাস
ফ্যামিলি পেনশন (স্বামী/স্ত্রী): ✓ মৃত্যুর পর আজীবন প্রাপ্য
📰 সাংবাদিক পেনশন প্রকল্প ✕ No Family Pension

১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর। ৬০+ বয়সী অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের জন্য (মাসিক আয় ≤ ₹১০,০০০)।

মূল মাসিক পেনশন: ₹৫,০০০ / মাস
উৎসব অনুদান (দুর্গাপুজো): ₹৩,০০০ / বছর (সর্বত্র সমান)
স্বাস্থ্যবিমা (MSBY): ₹৫ লক্ষ ক্যাশলেস (৩৮,০০০ হাসপাতাল)
ফ্যামিলি পেনশন (স্বামী/স্ত্রী): ✕ প্রাপকের মৃত্যুতে বন্ধ (বকেয়া প্রাপ্য)

৩. খবরটি কি আসল না ফেক? (সরকারি বিজ্ঞপ্তি 86/ICA/NB, বাজেট ও প্রশাসনিক প্রমাণ)

সোশ্যাল মিডিয়ায় সরকারি ভাতা নিয়ে নানা বিভ্রান্তি থাকলেও এই দুটি প্রকল্পই ১০০ শতাংশ আসল এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শীর্ষস্তর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে। আপনি যদি নিজের বা পরিবারের জন্য সঠিক সরকারি প্রকল্পের তালিকা খুঁজতে চান, তবে আমাদের MyScheme Portal 2026: আপনার জন্য কোন সরকারি স্কিমটি সঠিক? এক ক্লিকেই জানুন সম্পূর্ণ পদ্ধতি (Updated) গাইডটিও পড়ে দেখতে পারেন।

  • লোকতন্ত্র সেনানী সম্মানের সরকারি প্রমাণ: ২০২৬ সালের ৯ আগস্ট রাজ্য সচিবালয় ‘নবান্ন’ সভাঘরে নতুন সরকারের ৯০ দিন পূর্তি এবং জরুরি অবস্থার ৫০ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার আবহে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী তাপস রায় রাজ্যের তালিকাভুক্ত ৩২৫ জন জরুরি অবস্থার কারাবন্দিদের জন্য এই প্রকল্পের সূচনা করেন। বৈদিক মন্ত্রপাঠ ও পুষ্পবৃষ্টির মাধ্যমে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত প্রায় ৩০০ জন সংগ্রামীর হাতে তাম্রপদক (Copper Plaque) তুলে দেওয়া হয় এবং মাসিক ১০,০০০ টাকা ভাতার ঘোষণা করা হয়। উল্লেখ্য, ওই একই অনুষ্ঠান থেকে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উদযাপনের জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে চেয়ারম্যান ও মুখ্যসচিবকে সদস্য-সচিব করে একটি বিশেষ কমিটি গঠন এবং পাঠ্যক্রমে তাঁর অবদান অন্তর্ভুক্তির কথাও ঘোষণা করা হয়েছিল।
  • সাংবাদিক পেনশনের নোটিশ ও বাজেটের প্রমাণ: ২০২৬ সালের রাজ্য বাজেটে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের পেনশন আড়াই হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে দ্বিগুণ করার প্রস্তাব পেশ করেছিলেন। এরপর ২৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের (I&CA Department) সচিব ড. সৌমিত্র মোহন (Dr. Saumitra Mohan, IAS) অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি (Notice No. 86/ICA/NB) জারি করে যোগ্য সাংবাদিকদের কাছ থেকে আবেদনপত্র আহ্বান করেন। ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে নবান্ন সভাঘরে প্রেস ক্লাবের প্রতিনিধি ও প্রবীণ সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী এই বর্ধিত ৫,০০০ টাকা পেনশন এবং ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা’র কার্ড বিতরণ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করেন। প্রাসঙ্গিকভাবে ওই একই দিনে রাজ্যে প্রাকৃতিক ও আকস্মিক বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য ‘অর্জুন বাহিনী’ (যাদের মাঠপর্যায়ের ‘বীর’ পদের বেতন ২৫,০০০ টাকা ও উচ্চপর্যায়ের ‘বীর নায়ক’ পদের বেতন ৪০,০০০ টাকা) নামক একটি বিশেষ বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীরও উদ্বোধন করা হয়।
West Bengal Journalist Pension Notice 86/ICA/NB Official Proof Nabanna

৪. পশ্চিমবঙ্গ লোকতন্ত্র সেনানী সম্মান ২০২৬: বিস্তারিত নিয়ম ও সুবিধা

১৯৭৫ সালের ২৫ জুন থেকে ১৯৭৭ সালের ২১ মার্চ পর্যন্ত (প্রায় ২১ মাস) দেশে জরুরি অবস্থা (Emergency) চলাকালীন নাগরিক অধিকার, সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে অংশ নিয়ে যাঁরা মূলত MISA (Maintenance of Internal Security Act) বা DIR (Defence of India Rules) আইনের অধীনে কারাবরণ করেছিলেন, তাঁদের ত্যাগের স্বীকৃতি দিতেই রাজ্য সরকার প্রথমবার এই সম্মাননা চালু করেছে। কেন্দ্রীয় সরকার ২৫ জুন দিনটিকে ‘সংবিধান হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করে এবং উত্তরাখণ্ডসহ একাধিক রাজ্যে এই ধরনের পেনশন চালু রয়েছে।

  • মাসিক ১০,০০০ টাকা সাম্মানিক ও ১,০০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা: এই প্রকল্পের আওতায় উপভোক্তারা প্রতি মাসে সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১০,০০০ টাকা সাম্মানিক পেনশন পাবেন এবং ওষুধ ও নিয়মিত চিকিৎসার খরচের জন্য প্রতি মাসে অতিরিক্ত ১,০০০ টাকা চিকিৎসা সহায়তা ও সমস্ত সরকারি হাসপাতালে বিশেষ চিকিৎসা সুবিধা লাভ করবেন। উল্লেখ্য, যেসব সাংবাদিক ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার সময় কারাবাস ভোগ করেছিলেন, তাঁরাও সাধারণ ৫,০০০ টাকার পরিবর্তে মাসে ১০,০০০ টাকা করে পেনশন পাবেন।
  • বিনামূল্যে বাসযাত্রা ও তাম্রপদক: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সমস্ত সরকারি বাসে আজীবন বিনামূল্যে যাতায়াতের (Free Bus Travel) সুবিধা এবং রাষ্ট্রীয় সম্মানস্বরূপ একটি তাম্রপদক প্রদান করা হয়েছে।
  • পারিবারিক সুরক্ষা (Spouse Pension): স্বীকৃত লোকতন্ত্র সেনানীর মৃত্যু হলে বা যাঁরা ইতিমধ্যে প্রয়াত হয়েছেন, তাঁদের জীবিত স্ত্রী বা স্বামী (Widowed wife or widower husband) আজীবন এই মাসিক ভাতা ও সরকারি সুবিধাগুলো পাবেন।
  • ৩২৫ জনের তালিকা ও নতুন আবেদনের নিয়ম: বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রাপকের সংখ্যা কোথাও ৩০০, কোথাও ৩২৫ বা ৩৩০ উল্লেখ করা হয়েছে। এর প্রকৃত কারণ হলো, জেলাশাসকদের (DM) মাধ্যমে রাজ্য সরকার মোট ৩২৫ জনের চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করলেও নবান্নের অনুষ্ঠানে সশরীরে প্রায় ৩০০ জন উপস্থিত ছিলেন। যেসব সংগ্রামী বা তাঁদের বিধবা স্ত্রী কিংবা বিপত্নীক স্বামীর নাম এখনও তালিকায় ওঠেনি, তাঁরা ১৯৭৫-৭৭ সালে MISA বা DIR আইনে কারাবাসের সরকারি প্রমাণপত্র, জেলের রিলিজ অর্ডার বা আদালতের সার্টিফায়েড কপি, আধার কার্ড, ভোটার কার্ড ও ব্যাংক পাসবই নিয়ে সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসকের দপ্তরে (DM Office) সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন। পাশাপাশি ‘লোকতন্ত্র সেনানী সংঘ’ (Loktantra Senani Sangh)-কে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে বাদ পড়া যোগ্য ব্যক্তিদের তথ্য ও পরামর্শ সরকারকে দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

৫. অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের পেনশন (৫,০০০ টাকা) ও যোগ্যতার নতুন শর্তাবলি

বেসরকারি সংবাদমাধ্যমে দীর্ঘদিন কাজ করার পর অবসর জীবনে সাংবাদিকদের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পেনশন বা সামাজিক সুরক্ষা থাকে না। সাধারণ নাগরিকরা যেমন অবসর জীবনের জন্য Atal Pension Yojana 2026: প্রতি মাসে ৫,০০০ টাকা নিশ্চিত পেনশন কীভাবে পাবেন?-এর মতো স্কিমে বিনিয়োগ করেন, প্রবীণ গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য রাজ্য সরকার এই বিশেষ পেনশন প্রকল্পটি সংস্কার করেছে।

২০১৮ সালে চালু হওয়া পুরনো প্রকল্পে মাত্র ১৫০ থেকে ১৫৪ জন সাংবাদিক মাসে ২,৫০০ টাকা পেতেন। ২০২৬ সালের নতুন প্রকল্পে সেই ১৫০ জনের সংখ্যার ঊর্ধ্বসীমা তুলে দিয়ে এবং রাজনৈতিক বা মন্ত্রী পর্যায়ের সুপারিশের প্রথা বাতিল করে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে সমস্ত শ্রেণির যোগ্য গণমাধ্যমকর্মীকে অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সমগ্র প্রক্রিয়াটি তথ্য ও সংস্কৃতি সচিব ড. সৌমিত্র মোহন (IAS) এবং স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগমের প্রত্যক্ষ তদারকিতে পরিচালিত হচ্ছে।

যোগ্যতার মাপকাঠি ও সূক্ষ্ম শর্তাবলি (Eligibility Criteria)

  • নাগরিকত্ব ও বয়স: নোটিশ নং 86/ICA/NB অনুযায়ী আবেদনকারীকে ভারতের নাগরিক, পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা (বৈধ ভোটার কার্ড বা EPIC থাকা বাধ্যতামূলক) হতে হবে এবং আবেদনের তারিখে বয়স কমপক্ষে ৬০ বছর পূর্ণ হতে হবে।
  • অ্যাক্রিডিটেড সাংবাদিকদের অভিজ্ঞতা (১০ বছর): অবসরের আগে পশ্চিমবঙ্গে সাংবাদিক, ফটোজার্নালিস্ট, নিউজ করেসপন্ডেন্ট বা ক্যামেরাপার্সন হিসেবে সংবাদ সংগ্রহ (News gathering) বা সংবাদ প্রযোজনা (News production)-র কাজে যুক্ত থাকতে হবে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড একটানা বা বিরতিসহ (With or without breaks) কমপক্ষে ১০ বছর থাকলেই আবেদন করা যাবে।
  • নন-অ্যাক্রিডিটেড বা ডেস্ক সাংবাদিকদের অভিজ্ঞতা (১৫ বছর): যাঁরা নিউজ ডেস্কে কাজ করেন এবং যাঁদের সরকারি অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড নেই (নন-অ্যাক্রিডিটেড সাংবাদিক), তাঁদের ক্ষেত্রে সাংবাদিকতায় কমপক্ষে ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা এবং পেশাগত ক্ষেত্রে বিশিষ্টতার (Eminence in the field of journalism) প্রামাণ্য নথি থাকতে হবে।
  • মাসিক আয়ের ঊর্ধ্বসীমা: আবেদনকারীকে নিয়মিত চাকরি বা পেশা থেকে অবসরপ্রাপ্ত হতে হবে এবং কোনো সংস্থা থেকে নিয়মিত মাসিক বেতন বা সাম্মানিক পাওয়া চলবে না। আবেদনকারীকে প্রকৃত আর্থিক সংকটে থাকা ব্যক্তি হতে হবে এবং তাঁর বর্তমান মাসিক আয় কোনোভাবেই ১০,০০০ টাকার বেশি হওয়া চলবে না। EPF পেনশন বা নিজের জমানো টাকার ব্যক্তিগত পেনশন স্কিম ছাড়া অন্য কোনো উৎস থেকে পেনশন পেলে আবেদন করা যাবে না।
  • আচরণগত অযোগ্যতার শর্ত (Conduct Verification): সরকারি গাইডলাইনে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, আবেদনকারী নৈতিক স্খলনজনিত কোনো অপরাধ (Offence involving moral turpitude) বা গুরুতর পেশাগত অসদাচরণের (Serious professional misconduct) দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে এই প্রকল্পের অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
  • মৃত্যু পরবর্তী বকেয়া (Arrears Rule): এই প্রকল্পে ফ্যামিলি পেনশন না থাকলেও, পেনশন প্রাপকের মৃত্যুর তারিখ পর্যন্ত যদি কোনো বকেয়া অর্থ (Arrears/Amount due) প্রাপ্য থাকে, তবে সেই টাকা আইনত বৈধ উত্তরাধিকারীকে (Legally entitled person) প্রদান করা হবে।

৬. দুর্গাপুজোর ৩,০০০ টাকা অনুদান ও ৩৮,০০০ হাসপাতালে ৫ লাখের স্বাস্থ্যবিমা

এই প্রকল্পে পেনশন বৃদ্ধির পাশাপাশি দুর্গাপুজোর সরকারি আর্থিক সহায়তায় কলকাতা ও জেলার সাংবাদিকদের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বৈষম্যের অবসান ঘটানো হয়েছে। আগে দুর্গাপুজোর সময় কলকাতার সাংবাদিকরা ২,০০০ টাকা এবং জেলার সাংবাদিকরা মাত্র ১,০০০ টাকা পেতেন, কিন্তু নতুন নিয়মে কলকাতা ও জেলার ভেদাভেদ পুরোপুরি বিলোপ করে সমস্ত আবেদনকারী সাংবাদিককে সমপরিমাণ ৩,০০০ টাকা পুজো অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

চিকিৎসা সুরক্ষার জন্য তথ্য ও সংস্কৃতি সচিব ড. সৌমিত্র মোহন এবং স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগমের তদারকিতে সাংবাদিক ও তাঁদের পরিবারের জন্য ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা’য় বার্ষিক ৫ লক্ষ টাকার ক্যাশলেস স্বাস্থ্যবিমা কার্ড চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের ১,৯০০টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি সারা ভারতের প্রায় ৩৮,০০০টি হাসপাতালে (যেমন—দিল্লির AIIMS, ভেলোরের CMC, মুম্বইয়ের টাটা মেমোরিয়াল ক্যানসার হাসপাতাল, চণ্ডীগড় PGI এবং হায়দরাবাদের ড. রেড্ডি হাসপাতাল) সপরিবারে বিনামূল্যে চিকিৎসা মিলবে। পূর্বতন ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ডে ভিনরাজ্যে চিকিৎসার ক্ষেত্রে যে সীমাবদ্ধতা ছিল, ১৬ আগস্ট ২০২৬ থেকে রাজ্যে চালু হওয়া এই নতুন কার্ডে তা দূর করা হয়েছে। এতে পরিবারের সদস্য সংখ্যার কোনো ঊর্ধ্বসীমা নেই এবং পুরনো রোগও (Pre-existing diseases) প্রথম দিন থেকে কভার হয়।

তবে যেসব সাংবাদিক ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পে নথিভুক্ত আছেন কিংবা যাঁদের বয়স ৭০ বছরের ঊর্ধ্বে (যাঁরা সরাসরি Ayushman Vaya Vandana Card 2026: ৭০+ বয়স্কদের ৫ লাখ টাকার ফ্রি স্বাস্থ্য বীমা! আবেদন পদ্ধতি জানুন-এর আওতাভুক্ত), তাঁদের আলাদা করে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা কার্ড নেওয়ার প্রয়োজন নেই। হাসপাতালে আধার কার্ডের মাধ্যমে ই-কেওয়াইসি (e-KYC) করলেই পোর্টালে ফুটে উঠবে উপভোক্তা কোন প্রকল্পের অধীনে রয়েছেন। সাধারণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে বার্ষিক আয় ৮ লক্ষ টাকার বেশি হলে, অন্য সরকারি হেলথ স্কিম (WBHS, CGHS, ESI) থাকলে বা ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনে (SIR List) নাম বাদ গেলে এই স্বাস্থ্যবিমা পাওয়া যায় না।

৭. কীভাবে ফর্ম ফিলাপ ও আবেদন করবেন? (নবান্নের ঠিকানা ও ১২ পাতার ফর্মের নিয়ম)

পশ্চিমবঙ্গ সাংবাদিক পেনশন প্রকল্প ২০২৬-এর আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অফলাইনে (Offline Mode) পরিচালিত হচ্ছে। তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের ওয়েবসাইট বা নবান্নের দপ্তর থেকে সংগৃহীত মূল আবেদনপত্র ও অ্যানেক্সচারগুলো (সব মিলিয়ে প্রায় ১২ পাতার ফর্মের সেট) সঠিকভাবে পূরণ করে প্রয়োজনীয় সমস্ত নথিপত্রসহ সরাসরি নবান্নে জমা দিতে হবে।

WB Journalist Pension Offline Application Form 12 Pages Annexure IIA IIB
প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও ফর্মের নাম প্রযোজ্য ক্ষেত্র ও সরকারি নির্দেশিকা
১. মূল আবেদনপত্র ও ছবি পূরণ করা নির্ধারিত অফলাইন ফর্ম (Prescribed Application Form) এবং সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজ ছবি।
২. পরিচয় ও বয়সের প্রমাণপত্র জন্মতারিখের প্রমাণপত্র (Age Proof), প্যান কার্ড (PAN) এবং ভোটার কার্ডের (EPIC) সেলফ-অ্যাটেস্টেড জেরক্স কপি।
৩. ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নথি ব্যাংকের ক্যানসেলড চেক (Cancelled Cheque) অথবা পাসবইয়ের প্রথম পাতার কপি (RTGS/NEFT পেমেন্টের জন্য)।
৪. অ্যাক্রিডিটেড সাংবাদিকদের নথি প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডের সেলফ-অ্যাটেস্টেড কপি, ১০ বছরের অ্যাক্রিডিটেশনের প্রমাণ এবং স্বাক্ষরিত Annexure-II A ঘোষণাপত্র।
৫. নন-অ্যাক্রিডিটেড সাংবাদিকদের নথি সাংবাদিকতায় ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা ও পেশাগত বিশিষ্টতার প্রমাণপত্র এবং স্বাক্ষরিত Annexure-II B ঘোষণাপত্র।
৬. আয়ের শংসাপত্র (Income Certificate) মাসিক আয় ১০,০০০ টাকার নিচে হওয়ার প্রমাণ হিসেবে একজন গ্রুপ-এ (Group-A) সরকারি আধিকারিকের কাছ থেকে নির্দিষ্ট ফরম্যাটে নেওয়া শংসাপত্র।
৭. বার্ষিক নবীকরণ নথি (Annual Renewal) পেনশন চালু হওয়ার পর প্রতি বছর জমা দেওয়ার জন্য নির্ধারিত লাইফ সার্টিফিকেট (Life Certificate) ও নতুন ইনকাম সার্টিফিকেট।
📍 ফর্ম জমা দেওয়ার অফিসিয়াল সরকারি ঠিকানা:
The Director of Information, Information & Cultural Affairs Department (তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর), Government of West Bengal, Nabanna, 325 Sarat Chatterjee Road, Howrah, PIN - 711102.

সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে এবং প্রথম পর্যায়ে ফর্ম জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ৭ অক্টোবর ২০২৬; তবে পরবর্তী পর্যায়ের সময়সীমার জন্য তথ্য অধিকর্তার দপ্তরে খোঁজ নিয়ে ফর্ম জমা দেওয়া বাঞ্ছনীয়। ফর্ম জমা পড়ার পর ডিরেক্টর অফ ইনফরমেশন তা যাচাই (Scrutiny) করে ‘স্টেট লেভেল স্ক্রিনিং কমিটি’ (State Level Screening Committee)-র কাছে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠাবেন এবং অনুমোদন মিললে RTGS বা NEFT-এর মাধ্যমে সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে ৫,০০০ টাকা ঢুকবে।

⚠️ বিশেষভাবে উল্লেখ্য: যাঁরা ২০১৮ সালের পুরনো প্রকল্পে ২,৫০০ টাকা পেনশন পাচ্ছিলেন, তাঁদের পেনশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৫,০০০ টাকা হবে না; বর্ধিত পেনশন পেতে হলে তাঁদেরও ২০২৬ সালের নতুন নিয়মে নতুন করে আবেদন (Fresh Application) করতে হবে।

📊 নীতি ও তথ্য বিশ্লেষণ • POLICY DASHBOARD

পশ্চিমবঙ্গ প্রবীণ সাংবাদিক কল্যাণ প্রকল্প: ২০১৮ বনাম ২০২৬ সংস্কার ও অন্যান্য রাজ্যের সাথে তুলনামূলক খতিয়ান

West Bengal Balances Moderate Pension Payouts With Lower Experience Thresholds in 2026 Reform

মাসিক ভাতা • MONTHLY PENSION
₹৫,০০০ / মাস
২০১৮ সালের ₹২,৫০০ থেকে বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা হয়েছে
স্বাস্থ্য সুরক্ষা • HEALTH COVER
₹৫,০০,০০০
মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমায় সম্পূর্ণ ক্যাশলেস চিকিৎসা
চিকিৎসা পরিকাঠামো • NETWORK
৩৮,০০০+
AIIMS, CMC ভেলোর সহ সমগ্র ভারতে তালিকাভুক্ত হাসপাতাল
১. পশ্চিমবঙ্গ সাংবাদিক সুরক্ষা সংস্কার: ২০১৮ বনাম ২০২৬
মাসিক পেনশন বৃদ্ধি ও পুজোর আর্থিক সহায়তায় জেলা-কলকাতা বৈষম্য দূরীকরণ (টাকায়)
মাসিক পেনশন (Monthly Pension) ২০১৮: ₹2,500 ➔ ২০২৬: ₹5,000
2018: ₹2,500
2026: ₹5,000 (দ্বিগুণ বৃদ্ধি)
পুজো অনুদান: জেলা (Puja Bonus: District) ২০১৮: ₹1,000 ➔ ২০২৬: ₹3,000
2018: ₹1,000
2026: ₹3,000 (৩ গুণ বৃদ্ধি)
পুজো অনুদান: কলকাতা (Puja Bonus: Kolkata) ২০১৮: ₹2,000 ➔ ২০২৬: ₹3,000
2018: ₹2,000
2026: ₹3,000 (বৈষম্য বিলোপ)
২. রাজ্যভিত্তিক মাসিক পেনশন ও ন্যূনতম অভিজ্ঞতার শর্তাবলি
অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে ভাতার পরিমাণ মধ্যম হলেও প্রবেশের সুযোগ অনেক সহজ
Bihar (বিহার) ₹12,000 • ন্যূনতম ২০ বছর অভিজ্ঞতা (20 Yrs)
₹12,000 / মাস (কঠোর ২০ বছরের শর্ত)
Haryana (হরিয়ানা) ₹8,000 • ন্যূনতম ২০ বছর অভিজ্ঞতা (20 Yrs)
₹8,000 / মাস (২০ বছরের শর্ত)
West Bengal (পশ্চিমবঙ্গ ২০২৬) ₹5,000 • ১০-১৫ বছর অভিজ্ঞতা (10-15 Yrs)
₹5,000 / মাস (ডেস্ক ও প্রোডাকশন কর্মীরাও যুক্ত)
West Bengal (পশ্চিমবঙ্গ ২০১৮) ₹2,500 • ১০ বছর অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডধারী (10 Yrs)
₹2,500 / মাস (মাত্র ১৫০ জনে সীমাবদ্ধ ছিল)

অন্য রাজ্যের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গের প্রকল্পের অবস্থান এবং ভালো-খারাপ দিক

সর্বভারতীয় স্তরে বিহার, হরিয়ানা, আসাম ও কেরলের মতো রাজ্যগুলোতেও সাংবাদিক পেনশন চালু রয়েছে। বিহারে মাসিক পেনশন ১২,০০০ টাকা এবং হরিয়ানায় ৮,০০০ টাকা হলেও, ওই দুই রাজ্যেই আবেদনের জন্য কমপক্ষে ২০ বছরের সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক। একইভাবে আসামেও ২০ বছরের পরিষেবা এবং সরকারি স্বীকৃতি আবশ্যিক। সেই তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে পেনশনের অঙ্ক ৫,০০০ টাকা হলেও অভিজ্ঞতার শর্ত অনেক শিথিল (১০ থেকে ১৫ বছর) রাখা হয়েছে।

প্রকল্পের ইতিবাচক দিক (Pros)

  • ডেস্ক ও প্রোডাকশন কর্মীদের স্বীকৃতি: দেশের বহু রাজ্যে শুধুমাত্র সরকারি অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড থাকলেই পেনশন মেলে, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকার ১৫ বছরের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নন-অ্যাক্রিডিটেড তথা নিউজ ডেস্কের সাংবাদিক, ফটোজার্নালিস্ট, করেসপন্ডেন্ট এবং নিউজ প্রোডাকশন ও ক্যামেরাপার্সনদেরও সমান অধিকার দিয়েছে।
  • ভিনরাজ্যের শীর্ষ হাসপাতালে চিকিৎসা: প্রবীণ বয়সে জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য রাজ্যের ১,৯০০ হাসপাতালের পাশাপাশি ভেলোর CMC, দিল্লি AIIMS বা টাটা ক্যানসার হাসপাতালের মতো দেশের ৩৮,০০০ হাসপাতালে ৫ লক্ষ টাকার ক্যাশলেস সুবিধা একটি বিশাল সুরক্ষা কবচ।
  • রাজনৈতিক সুপারিশ ছাড়াই সুযোগ: আগে মাত্র ১৫০-১৫৪ জনের মধ্যে পেনশন সীমাবদ্ধ ছিল, এখন যোগ্য সকল প্রবীণ সাংবাদিকের জন্য দ্বার উন্মুক্ত।
  • সেনানীদের সস্ত্রীক সুরক্ষা: ৫০ বছর আগে জরুরি অবস্থার সময় কারাবরণকারী লোকতন্ত্র সেনানীদের মাসিক ১০,০০০ টাকা ভাতা ও সস্ত্রীক আজীবন সুরক্ষা বড় আর্থিক ভরসা জুগিয়েছে।

প্রকল্পের সীমাবদ্ধতা ও অসুবিধা (Cons)

  • সাংবাদিকদের ফ্যামিলি পেনশন না থাকা: লোকতন্ত্র সেনানীদের মৃত্যুর পর তাঁদের স্বামী বা স্ত্রী আজীবন ১০,০০০ টাকা ভাতা পেলেও, সাংবাদিক পেনশন প্রকল্পে প্রাপকের মৃত্যু হলে কেবলমাত্র ওই দিন পর্যন্ত বকেয়া টাকাটুকুই বৈধ উত্তরাধিকারী পাবেন এবং পরবর্তী মাস থেকে পেনশন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে।
  • ১২ পাতার অফলাইন ফর্ম ও বার্ষিক রিনিউয়াল: পেনশন চালু রাখতে প্রবীণ সাংবাদিকদের প্রতি বছর লাইফ সার্টিফিকেট, নন-এমপ্লয়মেন্ট ঘোষণাপত্র এবং গ্রুপ-এ অফিসারের কাছ থেকে নতুন করে ইনকাম সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে। ৬০-৭০ বছর বয়সী অসুস্থ প্রবীণদের পক্ষে প্রতি বছর এটি জোগাড় করা এবং পুরনো ২,৫০০ টাকা প্রাপকদের আবার নবান্নে গিয়ে ফর্ম জমা দেওয়া বেশ কষ্টসাধ্য।
  • ৫০ বছর পুরনো জেলের নথি: ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার সময় আটক হওয়া বহু প্রতিবাদীর কাছে আজ ৫০ বছর পর MISA বা DIR আইনের আসল রিলিজ অর্ডার অক্ষত নেই, যা নতুন আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক যাচাইয়ে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

৯. আবেদন করার সময় সাধারণ সমস্যা ও তার বাস্তব সমাধান (Troubleshooting)

প্রবীণ নাগরিক এবং গণমাধ্যমকর্মীদের অফলাইন ফর্ম প্রসেসিং করার সময় যে বাস্তব সমস্যাগুলো সবচেয়ে বেশি দেখা যায়, তার কার্যকরী সমাধান নিচে দেওয়া হলো:

  • সমস্যা ১: Annexure-II A এবং Annexure-II B নির্বাচনের ভুল:
    সমাধান: ফর্মের সেটে দুটি আলাদা ঘোষণাপত্র রয়েছে। আপনার যদি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড (একটানা বা বিরতিসহ ১০ বছর) থাকে, তবে শুধুমাত্র Annexure-II A পূরণ করবেন। আর যদি অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড না থাকে (১৫ বছরের ডেস্ক বা নিউজ প্রোডাকশন অভিজ্ঞতা), তবে Annexure-II B পূরণ করবেন। ভুল অ্যানেক্সচার দিলে স্ক্রিনিংয়ে ফর্ম আটকে যাবে।
  • সমস্যা ২: গ্রুপ-এ (Group-A) অফিসারের ইনকাম সার্টিফিকেট ফরম্যাট:
    সমাধান: সাধারণ পঞ্চায়েত বা পুরসভার আয়ের শংসাপত্র এখানে গ্রাহ্য হবে না। ১২ পাতার ফর্মের ভেতরেই ইনকাম সার্টিফিকেটের নির্দিষ্ট বয়ান দেওয়া আছে, যেখানে স্পষ্ট উল্লেখ থাকতে হবে যে আপনার মাসিক আয় ১০,০০০ টাকার নিচে এবং সেখানে একজন গেজেটেড গ্রুপ-এ সরকারি আধিকারিকের অফিসিয়াল সিল ও স্বাক্ষর থাকতে হবে।
  • সমস্যা ৩: পুরনো ২,৫০০ টাকা পেনশন প্রাপকদের বিভ্রান্তি:
    সমাধান: ২০১৮ সালের স্কিমে যাঁরা পেনশন পাচ্ছিলেন, তাঁরা অনেকেই ভাবছেন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অটোমেটিক ৫,০০০ টাকা ঢুকবে। কিন্তু সরকারি নোটিশ অনুযায়ী তাঁদেরও নতুন ১২ পাতার ফর্মে Fresh Application নবান্নে জমা দিতে হবে।

১০. সাধারণ মানুষের মনে থাকা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর (FAQs)

প্রশ্ন ১: যেসব সাংবাদিক ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার সময় জেল খেটেছিলেন, তাঁরা কোন প্রকল্পে কত টাকা পাবেন?

উত্তর: রাজ্য বাজেটের ঘোষণা অনুযায়ী, সাধারণ অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকরা মাসে ৫,০০০ টাকা পেনশন পাবেন; কিন্তু যেসব সাংবাদিক জরুরি অবস্থার সময় কারাবাস ভোগ করেছিলেন, তাঁরা লোকতন্ত্র সেনানীদের মতোই মাসে ১০,০০০ টাকা করে পেনশন পাবেন।

প্রশ্ন ২: সাংবাদিক পেনশনের ফর্ম কোথা থেকে ডাউনলোড করা যাবে এবং অনলাইনে জমা দেওয়া যাবে কি?

উত্তর: আবেদনপত্র, Annexure-II A/B এবং ইনকাম সার্টিফিকেটের ফরম্যাট পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা নবান্নের দপ্তর থেকে পাওয়া যাবে। তবে ফর্ম জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অফলাইন; পূরণ করা ফর্ম সরাসরি নবান্নের ৩২৫ শরৎ চ্যাটার্জি রোডের তথ্য অধিকর্তার অফিসে জমা দিতে হবে।

প্রশ্ন ৩: পেনশন প্রাপক সাংবাদিকের মৃত্যু হলে তাঁর বকেয়া টাকার কী হবে?

উত্তর: এই প্রকল্পে স্ত্রী বা পরিবারের জন্য ফ্যামিলি পেনশনের নিয়ম নেই। তবে পেনশন প্রাপকের মৃত্যুর তারিখ পর্যন্ত যদি কোনো মাসের পেনশন বকেয়া (Due/Arrears) থাকে, তবে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তাঁর বৈধ উত্তরাধিকারী সেই বকেয়া টাকাটুকু পাবেন।

প্রশ্ন ৪: যাঁদের বয়স ৭০ বছরের বেশি বা যাঁদের আয়ুষ্মান ভারত কার্ড আছে, তাঁদের কি আলাদা করে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা কার্ড করতে হবে?

উত্তর: না। ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সের সমস্ত প্রবীণ নাগরিক সরাসরি কেন্দ্রীয় ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের আওতায় ৫ লক্ষ টাকার চিকিৎসা সুবিধা পান। যাঁরা ইতিমধ্যে আয়ুষ্মান ভারতে নথিভুক্ত, তাঁদের আলাদা করে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনার কার্ড নেওয়ার প্রয়োজন নেই; উভয় ক্ষেত্রেই দেশের ৩৮,০০০ হাসপাতালে একই ক্যাশলেস সুবিধা পাওয়া যাবে।

🔔 সতর্কীকরণ: এই প্রতিবেদনটি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের বিজ্ঞপ্তি নং 86/ICA/NB এবং ২০২৬ সালের সরকারি ঘোষণার তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রস্তুত করা হয়েছে। আবেদনের সময়সীমা বা সরকারি শর্তাবলি যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে, তাই ফর্ম জমা দেওয়ার পূর্বে অবশ্যই নবান্নের সংশ্লিষ্ট দপ্তর বা জেলাশাসকের করণ থেকে সর্বশেষ নির্দেশিকা যাচাই করে নেওয়া বাঞ্ছনীয়। আপনার কোনো প্রশ্ন থাকলে নিচে Review Box-এ কমেন্ট করে জানান!
Category: WB Govt Scheme

Share Your Feedback

User Reviews

Loading reviews...
Loading offer...
Check Offer

Service